নৈশপ্রহরী নাজিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

জুন ১৫ ২০১৮, ১৭:২১

স্টাফ রিপোর্টার: কুলাউড়ার পূর্বভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নাজির আলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে আবারও। নাজির আলী তার জন্মতারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে পূর্বভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে চাকুরী গ্রহণের বিষয়টি প্রায় ওপেন সিক্রেট। তার এ জালিয়াতির ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে কিছুদিন পূর্বে। এছাড়া, নানা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ- গত ১১ মে বিদ্যালয়ের একটি সিলিং ফ্যান চুরি হলে, তিনি বিদ্যালয়ের প্যারা শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে উক্ত সিলিং ফ্যান চুরির অভিযোগ প্রচার করেন। পরবর্তীতে গত ১৬ মে তিনি হাবিবুর রহমান কর্তৃক সিলিং ফ্যান চুরির মর্মে ভিডিও রেকর্ডকৃত কয়েকজনের স্বাক্ষ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেন। বিষয়টি জানার পর হাবিবুর রহমান কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (নং- ১০৩৫, তাং- ২১/০৫/২০১৮ইং) করেন।

বিদ্যালয়ের সিলিং ফ্যান চুরি, শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে উক্ত সিলিং ফ্যান চুরির অভিযোগ প্রচার এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও রেকর্ড ফেসবুকে আপলোড করার ঘটনা জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নাজির আলীর জন্মতারিখ জালিয়াতিসহ নানা স্বেচ্ছাচারিতার বিষয় নতুন করে আলোচনায় আসে আবারও।
খোজ নিয়ে জানা গেছে- জাতীয় পরিচয় পত্র (নং- ৫৮০৭৭০৬০০৪৬৬) অনুযায়ী নাজির আলীর জন্মতারিখ ১০/০২/১৯৮৪ইং হলেও, পূর্বভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে চাকুরীর আবেদনে তিনি জন্মতারিখ দেখান ১০/০২/১৯৮৭ইং এবং জাতীয় পরিচয় পত্র গোপন রেখে জন্ম নিবন্ধন কার্ডের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেন। নাজির আলীর জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম নিবন্ধন কার্ড ও চাকুরীর আবেদন পত্র পরীক্ষা করলেই এ জালিযাতির বিষয় প্রমানীত হবে।
বিদ্যালয়ের সিলিং ফ্যান চুরির প্রসঙ্গে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়- নাজির আলীই সিলিং ফ্যান চুরির মূল হোতা। প্যারা শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে ফাসানোর পরিকল্পনায় নাজির আলীর বাড়ীতে বসবাসরত তার চাচাতো ভাগ্না তাসিনকে দিয়ে এ সিলিং ফ্যান চুরি করানো হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সিলিং ফ্যান চুরির অভিযোগ প্রচার এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও রেকর্ড ফেসবুকে আপলোড করা হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নাজির আলী বলেন- আমি ভাগ্না তাসিনকে দিয়ে সিলিং ফ্যান চুরি করাইনি। শিক্ষক হাবিবুর রহমানই সিলিং ফ্যান চুরি করেছেন। স্বাক্ষী প্রমান রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আমার দায়িত্ব আমি পালণ করেছি। আমি জন্মতারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকুরী গ্রহণ করিনি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে তা সত্য নয়।

  •