মৌলভীবাজারের ঢেউপাশায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষিত

জুলাই ১৫ ২০১৮, ১৮:০১

নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার ঢেউপাশা গ্রামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী রাতের আধাঁরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে জগন্নাথপুর জামেয়া ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী । এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ঢেউপাশা গ্রামের কামাল মিয়ার পুত্র জুবেল মিয়া ও বালিকন্দি গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র ছারখান মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে । মামলা নং-৩/১৮৩, তারিখ- ৪/০৭/২০১৮ইং । মামলার বিবরণে জানা যায়, কমলগঞ্জ থানাধিন শংকরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র তজমুল আলী, মৌলভীবাজার সদর থানার ঢেউপাশা গ্রামে ৫ সন্তান নিয়ে তার শশুর বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত নিয়ে বসবাস করছেন । তার স্ত্রী দুলবী বেগম শ্রমিক হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন । দিনমজুর তজমুল আলী বিভিন্ন সময় কাজের কারণে বাড়ির বাইরে থাকার সুবাদে ঢেউপাশা গ্রামের কামাল মিয়ার পুত্র জুবেল মিয়া প্রায়ই তার মেয়ে সীমা (ছদ্দনাম) (১৭) কে কু-প্রস্তাব দিত। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানালে বখাটে জুবেল মিয়া সীমাকে হুমকি দিয়ে বলে ‘সুযোগ পেলে তোকে উচিত শিক্ষা দিব’। ধানের বীজ বপনের জন্য গত ৩/০৭/২০১৮ইং তারিখে দিনমজুর তজমুল আলী পার্শ্ববর্তী মতিন মিয়ার বাড়িতে থাকাকালীণ সময়ে বখাটে জুবেল মিয়া তার সহযোগি ছারখান মিয়াকে নিয়ে রাত আনুমানিক ১১ঘটিকার সময় দিনমজুর তজমুল আলীর বসতঘরে গিয়ে সীমাকে মুখচাপা দিয়ে ধরে নিয়ে যায় এবং জুবেল মিয়ার বসতঘরের পাশে খালি জায়গায় ফেলে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় । মেয়ের চিৎকার শুনে খোজাখুজি করলে ধর্ষক জুবেল মিয়ার পিতা কামাল মিয়া ও মাতা কুকিলা বেগম ভিকটিম সীমাকে তার বাবার কাছে নিয়ে আসে এবং কাউকে কোনকিছু না বলতে হুমকি প্রদান করে । পরদিন সকালে ভিকটিম সীমাকে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়, যার রেজি: নং-৪০০২৫ । এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই গিয়াস উদ্দিন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামিরা পলাতক রয়েছে । আসামিরা মৌলভীবাজারের বাইরে অবস্থান করায় গ্রেফতারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে । অচিরেই গ্রেফতারে সক্ষম হবো । মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৯/৬/২০১৮ইং তারিখে সন্ধ্যা অনুমান ৭ঘটিকার সময় দিনমজুর তজমুল আলীর ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া পুত্র ইমান আলী (১২) বাড়ির কাছ থেকে হারিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ডায়েরী নং-৯৯৯,তারিখ-২০/০৬/২০১৮ইং ।

  •