কুলাউড়ায় রাস্তা সংস্কার কাজে ধীরগতি, চরম ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

জানুয়ারি ২৩ ২০২০, ১৬:১০

এস.এম. সাব্বির আলম: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়ক প্রশস্থকরণ ও সংস্কার কাজে ধীরগতির কারণে এবং সড়কের ধুলোবালিতে চরম ভোগান্তিতে যাতায়াতকারী স্থানীয় জনসাধারণ। ১৮ মাস মেয়াদের প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশ সময় চলে গেলেও সম্পন্ন হয়নি ৩০শতাংশ কাজ। বর্ষায় কর্দমাক্ত এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি ও খোদাই করা সড়কের কারণে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৪ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ যতায়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ অজুহাতে পরিবহন চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে। ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণের জন্য ভোক্তভোগিরা ২২শে জানুয়ারি বুধবার স্থানীয় বাজারে মানববন্ধন করে। প্রবীন কমিউনিষ্ট কৃষক নেতা আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে এবং আহমেদ মোনায়েম মান্না’র সঞ্চালনায় প্রতিবাদী মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাসদ নেতা আশিকুর রহমান ফটিক, কমিউনিষ্ট নেতা সৈয়দ মোশারফ আলী, জাসদ নেতা আব্দুল গাফ্ফার কায়ছুল,আওয়ামীলীগ নেতা আলী সাজ্জাদ খান, বিএনপি নেতা এম এ নূর, কৃষক নেতা আব্দুল হান্নান, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মোঃ ফয়জুল হক, আব্দুল আহাদ, শ্রমিক নেতা আব্দুল জব্বার প্রমূখ্য। বক্তারা বলেন, প্রতিদিন রবিরবাজার রোডে প্রশাসনিক, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সহ নানবিদ কাজে হাজার হাজার লোকজন কুলাউড়া উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা শহরে যাতায়াত করেন। বিশাল জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত দক্ষিন লংলা ও রবিরবাজার অঞ্চলের মানুষদের দূর্ভোগ লাগবে জানুয়ারি মাসের ভিতরে রাস্তার কাজ ভালো ভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। একই সময়ে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সামনেও কলেজের ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষক মন্ডলী রাস্তা সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়া উপজেলা সদর হতে রবিরবাজার হয়ে ঢিলেরপার বাজার এবং ভায়া টিলাগাঁও পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন, রাস্তা প্রশস্থকরণ ও পাকাকরণ কাজ শুরু হয় গত বছরের জানুয়ারি মাসে। ১৮ মাস মেয়াদে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঢাকার ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ পাওয়ার পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা ভেঙ্গে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করে। কাজ শুরুর একবছর চলে গেলেও এখনো সড়কের এক তৃত্বীয়াংশ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শর্তানুযায়ী অটোমেটিক মিক্সচার মেশিন প্লান্টের মাধ্যমে পিচ ঢালাই করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সড়কের পিচ ঢালাইয়ের চেষ্টাকালে সওজের দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা কাজটি বন্ধ করে দেন এবং শর্তানুযায়ী অটোমেটিক মিক্সচার মেশিনে কাজ সম্পাদনের নির্দেশ দেন। এজন্য ছয়মাস থেকে কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অটোমেটিক মিক্সচার মেশিন প্লান্ট স্থাপনেও বিলম্ব হচ্ছে। কাজ বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষসহ যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রাউৎগাঁও, পৃথিমপাশা, কর্মধা, টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই সড়ক ব্যবহার করেন। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় রাস্তা থেকে প্রচুর ধুলো উড়ছে। এ সড়কে চলাচলে সড়কের ধুলো ও খানাখন্দের ঝাকুনিতে যাত্রীদের বেকায়দায় পড়তে হয়। এদিকে উন্নয়ন কাজের অপরিকল্পনার বিড়ম্বনার কারণে পরিবহন সেক্টরের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ভাড়া গুণার পাশাপাশি দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষের। কুলাউড়া-রবিরবাজার ১০ কিলোমিটার সড়কের সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া ছিলো ২০ টাকা। রাস্তা বেহাল দশার অজুহাতে চালকরা ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ফলে মানুষ দুর্ভোগ ও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাধারণ যাত্রীসহ স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন দুর্ভোগ মাড়িয়ে স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করছেন। বিভিন্ন কর্মস্থলে পৌঁছতে ২০ মিনিটের রাস্তায় প্রতিদিন ৩০- ৪০ মিনিট বিলম্ব হয় তাদের। গাড়ি চালক ও মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ১০ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে লাগে দেড় ঘন্টা। একবার গেলে আর ফিরে আসতে মন চায় না। এজন্য অনেকেই এই রাস্তা এড়িয়ে চলেন।
সিএনজি অটোরিক্সা পরিবহন শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতি’র অনেকে বলেন, ভাঙ্গা সড়কে গাড়ি চালানোয় সিএনজি অটোরিক্সা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাড়ি প্রতিনিয়ত মেরামত করতে হচ্ছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই চালকরা এই সড়কে গাড়ি চালায়।
সড়ক ও জনপদ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পিচ ঢালাইয়ের কাজ সম্পাদন করতে চাচ্ছিলো। কিন্তু আমরা প্রকল্পের শর্তানুযায়ী অত্যাধুনিক মিক্সচার মিশিন প্লান্টের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেই। জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে দ্বিতীয় লেয়ারের কাজ শুরু হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে কাজ সম্পন্ন হবে।

  •