• ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

 হাজারো আলেমের উস্তাদ আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস সিদ্দিকী (র.) চির নিদ্রায় শায়িত

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮
 হাজারো আলেমের উস্তাদ আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস সিদ্দিকী (র.) চির নিদ্রায় শায়িত

নিজস্ব প্রতিনিধি :    কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিংগাজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ, ব্রাহ্মনবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব, আল্লামা ছাহেব ক্বিবলা ফুলতলী র. এর স্নেহধন্য হযরতুল আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস সিদ্দিকী (র.) গত ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং রবিবার রাত ১১.০০ ঘঠিকায় ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যর সময় উনার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। স্ত্রী, চার পুত্র, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুনাগ্রুহী রেখে মারা যান। সারা জীবন দ্বীনের খেদমত করে গেছেন।মানুষের শ্রদ্ধা ,ভক্তি ও ভালবাসা অর্জন করে সারা জীবন অতিবাহিত করেন।

অধ্যাতিক জগতের রাজধানী সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬১ সালে দাখিল ১ম বিভাগে, ১৯৬৫ সালে আলিম, ১৯৬৭ সালে ফাজিল, ও ১৯৬৯ সালে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ কামিল (হাদিস) (ঐ.ঝ.ঈ. ১৯৭২ সালে মদনমোহন কলেজ সিলেট), সুনামের সাথে সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবনে উনার বাবা পীরে কামিল মাওলানা মুদ্দাচ্ছির আলী নকশবন্দী (র.) এর প্রতিষ্ঠিত সুজাউল আলিয়া মাদ্রাসার (১৯৭৫ -১৯৭৭ সাল পর্যন্ত) প্রধান শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা পেশায় কর্ম জীবন শুরু করেন। পরে (১৯৭৭-১৯৭৮সাল) পর্যন্ত সাগরনাল সিনিয়র মাদ্রাসায় হেড মৌলানা পদে সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন।

১৯৭৮ সালে পীরে কামিল বিশকুটী (র.) প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিংগাজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ ও পরে অধ্যক্ষ পদে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে মহান দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহন করেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন।

মরহুমের বড় ছেলে মোদাব্বির হোসেন সিদ্দিকী সিলেট সরকারি এম.সি. কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক। ২য় ছেলে আব্দুল মোক্তাদির হোসেন সিদ্দিকী মৌলভীবাজার জগৎসী এম. সাইফুর রহমান কলেজের ইস. ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক, ৩য় ছেলে মোজাক্কির হোসেন সিদ্দিকী বি.এ. অনার্স, এম.এ. অর্থনীতি, ৪র্থ ছেলে মোসাদ্দিক হোসেন সিদ্দিকী বগুড়া সরকারি মেডিকেল কলেজে ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। মেয়ে ফারহানা জান্নাত সিদ্দিকী বি. এ. (ডিগ্রি) ৩য় বর্যে অধ্যয়নরত।

বড় পুত্রবধু সুমাইয়া ফেরদোউস ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত।

আরবী, বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় ছিল উনার অগাধ পান্ডিত্য। যার ছাত্রদের অনেকেই বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, প্রধান সহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। উনি ছিলেন বই প্রেমিক। জীবনের শেষ মূহুর্তে এশার নামায আদায় করে অযু অবস্থায় কিতাব পড়ারত হালকা অসুস্থতা অনুভব করলে খুব দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণ শুধু উচ্চস্বরে আল্লাহ যিকির করতে থাকেন। হঠাৎ যিকির থেমে গেলে দ্রুত মৌলভীবাজার দি রয়েল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষনা করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন।

তার প্রথম জানাযা ব্রাহ্মণবাজার জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো মানুষের ঢল নামে উনার জানাযায়। জানাযার নামায পড়ান উনার ২য় ছেলে মাও.আব্দুল মোক্তাদির হোসেন সিদ্দিকী।

জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-২ আসনের নৌকার প্রার্থী এম এম শাহীন,জাতীয় পার্টির প্রার্থী এড.মাহবুব আলম শামীম,ধানের শীষ প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, উপজেলা চেয়ারম্যান আ.স.ম কামরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সায়েদ, সাবেক সাংসদ নবাব আলী আব্বাস খান,মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ,জেলা আল ইসলাহ সভাপতি শামসুল ইসলাম, ব্রাহ্মনবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক মোঃ মমদুদ হোসেন,বরমচাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহবাব চৌধুরী শাহজাহানসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা ইউনিয়ন থেকে আগত মুসল্লিগন।

পরে উনার নিজ গ্রামের বাড়ীতে ২য় জানাজা পড়ান উনার ভাতিজা কাজী মাও.রফিক উদ্দিন। শেষে সরার ভালবাসায় মায়ের কবরের পাশে শায়িত করা হয় এই মহান ব্যক্তিকে। আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করুন।