জীবন সায়াহ্নে রাষ্ট ভাষা বাংলা চাই এর ভাষাসৈনিক শেখ বদরুজ্জামান, এখনো পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

ফেব্রুয়ারি ২৮ ২০২০, ২২:১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনে যখন ঢাকার রাজপথ উত্তপ্ত তখন শেখ বদরুজ্জামান সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজে অধ্যয়নরত। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের টেলিগ্রাফ পেয়ে চৌকুশ কয়েকজন ছাত্রনেতার সাথে চলে যান ঢাকায়। জড়িয়ে পড়েন ভাষা আন্দোলনে। মিছিলে মিছিলে শ্লোগানে তারও কণ্ঠে ধ্বনি প্রতিধ্বনি হতো রাষ্ট ভাষা বাংলা চাই। তখন তিনি নিয়মিত মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা কার্জন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলী চালিয়ে ছিল তখন তিনি ছিলেন ও সেই মিছিলে। তার চোখের সামনেই গুলীবিদ্ধ হন সহপাঠীরা। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে যান। পরদিন ২২শে ফেব্রুয়ারি মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাযায় তিনি অংশগ্রহণ করেন। বয়সের ভারে নুজ্য বদরুজ্জামান সে সময়ের সহগামী, সতীর্থদের নাম স্মরণে আনতে না পারলেও স্মৃতিপটে ভাসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৫৩ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করায় জটিলতা এড়াতে কখনই বলেননি তিনি একজন ভাষাসৈনিক।
২০১৩ সালে প্রথম জাতীয় পত্রিকাসহ কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয় ভাষা সৈনিক শেখ বদরুজ্জামানের নাম। এরপর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় তাকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করে। দাবি ওঠে তাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে এখনো জুটেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
নিভৃতচারী এই ভাষাসৈনিক শেখ বদরুজ্জামান এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বয়সের ভারে ন্যুজ্যু হয়ে পড়ে চলাচলের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। জীবনের শেষ সময়টা এখন তার কাটছে বদ্ধ ঘরে। বিছানায় শুয়ে শুয়েই কেটে যায় দিন রাতের পুরো সময়। প্রাণচ্ছল ভঙ্গিতে নাতি-নাতিদের সাথে তিনি আর সময় কাটাতে পাড়েন না। বিছানাই যেন তার একমাত্র সঙ্গী। ভাষাসৈনিক হিসেবে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন তাকে সম্মাননাও জানায়।
শেখ বদরুজ্জামান ১৯২২ সালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পঞ্চভাষী মৌলভী ইলিয়াছ হোসাইন ও নুরজাহান ভানুর একমাত্র সন্তান। ১৯৪৯ সালে মেট্রিকোলেশন (এসএসসি) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের জন্য লেখা পড়ার কিছুটা ক্ষতি হয়, এরপরও তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৩ সালে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে চাকুরী গ্রহণ করেন। তিনি শাহ এসএএম কিবরিয়ার ভাইয়ের মেয়ে শাহ নূরুন নাহারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চাকুরীর সুবাধে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় যাওয়া ও দেখার সুযোগ হয়। ১৯৮৬ সালে জেলা কৃষি কর্মকর্তার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামানের বড় ছেলে হাজী নোমান আহমদ জানিয়েছেন, আমার বাবা একজন ভাষাসৈনিক, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। বাবার মৃত্যুর আগে যেন ভাষাসৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান এটা আমাদের সকলের দাবি।

  •