রাজনগরের ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করলেন ৬ ইউপি মেম্বার

মে ০৮ ২০২০, ০১:২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে ৬ জন ইউপি মেম্বার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ অভিযোগ দাখিল করে অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার-সিলেট, উপজেলা চেয়ারম্যান রাজনগর এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজনগরের কাছে দেয়া হয়েছে বলে সুত্রে প্রকাশ।

লিখিত অভিযোগে ইউপি মেম্বাররা উল্লেখ করেন, ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। জনগনের ভোটে তারা নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহনের পর থেকে অদ্যাবধি ইউনিয়নের হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম সনদের ফি, উত্তরাধীকার সনদের ফি বাবত প্রতি বছর আয়-ব্যায়ের কোন হিসাব ইউপি মেম্বারদের অবগত করেন না ইউপি চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ।
এদিকে তিন বছরের অধিক সময় ধরে ইউপি সচিব কাওছার হোসেন একাধারে ইউপি অফিসে কর্মরত থেকে চেয়ারম্যানের সাথে যোগসাজস করে ইউপি মেম্বারদের পাস কাটিয়ে যে কোন সরকারী বরাদ্ধ ও ত্রান বিতরণ করেন।
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা কর্মসুচির আওতায় ফতেপুর ইউনিয়নে ৪ বার সরকারী বরাদ্ধ আসলেও ইউপি চেয়ারম্যান মহিলা সদস্যদের ১২ টি নামে বরাদ্ধ দেন। ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা ২৮ থেকে ৩০ জন, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বাররা ৪ বার বরাদ্ধের মধ্যে ২৭ থেকে ৩৩ টি নামে বরাদ্ধ পান ইউপি চেয়ারম্যান থেকে।
শিশু খাদ্য হিসাবে বিগত বরাদ্ধে ৩৯ জন শিশুর খাদ্য বরাদ্ধ হলেও ইউপি মেম্বাররা জানেন না এসব শিশু খাদ্য কোথায় কাকে দেয়া হয়েছে? এবং তাদেরকে অবগত ও করা হয়নাই।
কৃষি খাতে সার-বীজ সহ কৃষি উপকরণ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্ধ না দেওয়ার কারনে ইউপি মেম্বাররা কোন কৃষককে কৃষি উপকরন দিতে পারেন নাই।
উল্লেখিত বিষয়ে ৬ জন ইউপি মেম্বার জেলা প্রশাসকের কাছে স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে পরিষদের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে অডিট কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় উদঘাটনের দাবী জানান। লিখিত অভিযোগে ইউপি সদস্য কমর উদ্দীন, রফিক উদ্দীন, এমদাদুল হক টিটু, ভারতী রানী দাশ, লিলি আক্তার, শুকুর আলী মেম্বারের স্বাক্ষর দেখা যায়।
উল্লেখ্য বিগত ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান লয়লুছ ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ইউপি সচিব কাওছার হোসেন এখানে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি কিছু দিনের জন্য অন্যত্র বদলী হয়ে ফের ফতেপুর ইউনিয়নে বদলী হয়ে আসেন।

  •