বড়লেখায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ, গ্রেফতার-৫

মে ২০ ২০২০, ০২:২২

নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ব্যবসায়ী সমছ উদ্দিন (৩৪)  কে জবাই করে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত রহমানীয়া চা বাগানের বাসিন্দা শচিন নায়েক জগাই (৩৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের হাফিজুর রহমান (২৮), হেলাল উদ্দিন হেলাই (৩৫), মোক্তার আলী (৪৫) ও জসিম উদ্দিন (৪২) কে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত করে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ৩টি ধারালো অস্ত্র।

গত (১৮মে) সোমবার উপজেলার দক্ষিণ শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক নামক ব্যক্তির পরিত্যক্ত ঘর থেকে ভোর রাতে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সমছ উদ্দিন একই ইউনিয়নের মধ্য গ্রামতলা গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে।

সমছ উদ্দিন নিখোঁজের পর তার বাবা (১৭মে) বড়লেখা থানায় একটি জিডি করেন। জিডির নং৫৩২ এর ভিত্তিতে বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে নিখোঁজের পরদিন রাতে মোহাম্মদনগরে অবস্থিত তার নিজস্ব মৎস্য খামারের পাশে রাজ্জাক মিয়ার পরিত্যক্ত ঘরে গলাকাটা মৃত অবস্থায় সমছ উদ্দিন কে উদ্ধার করে। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীরের দিক নির্দেশনায় কুলাউড়া সার্কেল ও বড়লেখা থানার ওসি ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে রহস্য উন্মোচিত করে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই ব্যবসায়ী সমছ উদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমছ উদ্দিন নিখোঁজের পর তার বাবা আমির উদ্দিন গত (১৭মে) বড়লেখা থানায় জিডি করেন। এর ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীরের দিক নির্দেশনায় কুলাউড়া সার্কেল ও বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে নিখোঁজের পরদিন রাতে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে। এরপর দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রহমানীয়া চা বাগানের মৃত সত্য নায়েকের ছেলে শচিন নায়েক ও মোহাম্মদনগর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমানকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যে পুলিশ মৃত জহুর আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন হেলাইকেও আটক করে। হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সে পুলিশকে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করে। পরে তার দেয়া তথ্যে পুলিশ মোক্তার আলী ও জসীম উদ্দিনকে আটক এবং হত্যকান্ডে ব্যবহৃত ৩টি ধারালো দা উদ্ধার করে।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, নিখোঁজের পিতার জিডির ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীর স্যারের দিক নির্দেশায় সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত ৫ জনকেই একে একে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই তারা সমছ উদ্দিনকে খুন করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। তাদের তথ্য মতে হত্যকান্ডে ব্যবহৃত ৩টি ধারালো দা উদ্ধার করাহয়। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  •