শ্রীমঙ্গলে জেরিন চা বাগানে ছাত্রলীগ ও চা শ্রমিকদের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত

সেপ্টেম্বর ০৩ ২০২১, ০৩:০১

ইশরাত জাহান চৌধুরী  :  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রলীগ এর নেতাকর্মীদের সাথে চা শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল এগারোটায়
শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের রাধানগরে জেরিন চা বাগানে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে৷
ছাত্রলীগ নেতাদের ছবি তুলতে নিষেধ করার প্রেক্ষিতে জেরিন চা বাগানের সহকারী ম্যানেজারকে মারধোর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে বাগানের চা শ্রমিকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর পাল্টা হামলা করে ও একটি রির্সোটে ভাংচুর চালায়।খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ঐ দিন সকালে উপজেলার রাধানগর এলাকার গ্র‍্যান্ড মুবিন রিসোর্টে এই ঘটনাটি ঘটে। এতে সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়ে। আহতরা হলেন জেরিন চা বাগানের শ্রমিক
মামুন মিয়া (২৪), অঞ্জলী ব্যক্তি (২৫), ছন্দা সবর (৩৫), বিশ্বমনী রিকিয়াশন(২৬),
পারুল বেগম(৩০), ভারতী সাওতাল (৪০),
অনিতা গোয়ালা (৪০), আলো মনি বাড়ই (২৫)
সৃতি সাংমা (৪০), মুসলিম মিয়া (২০)
উত্তম গড়াই (২৫), আব্দুল কাদির (২৬), ইন্দ্রজিত দাস (২৫) ও ঢাকা থেকে আসা ছাত্রলীগের নেতা মো. রাফি ঢাকা(২৯), মো রাসেল মিয়া (২৭)‌‌ । আহতরা শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
গ্র‍্যান্ড মুবিন রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চা শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম হোসেন ও ঢাকার উত্তর মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের আরো ১৮ নেতাকর্মী গত বুধবার রিসোর্টে উঠেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টার দিকে তারা রির্সোটের পাশে জেরিন চা বাগানের ৯ নং সেকশনের কালাবন এলাকার ছবি তুলছিলেন। তখন ঐ এলাকায় কর্মরত মহিলা চা শ্রমিকরা তাদের ছবি তুলতে নিষেধ করলে শ্রমিকদের সাথে নেতাকর্মীদের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিন গ্র‍্যান্ড মুবিন রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, রিসোর্টের চারটি রুমের আসবাব পত্র, জানালা দরজা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে আছে। রিসোর্টের সিসিটিভি, টেলিভিশন পানির পাইপ ও ফুলের টব, চেয়ার ইত্যাদি ভেঙ্গে পরে আছে এবং ঘরের ভিতর রান্না করা খাবার পড়ে আছে।
রিসোর্টের মালিক আব্দুল মুবিন বলেন, ঝামেলা যা হওয়ার হয়েছে। কিন্তু এভাবে আমার রিসোর্টে হামলা চালানো উচিত হয় নি। চা বাগানের শ্রমিকরা এখানে এভাবে হামলা চালানোর ফলে আমার রিসোর্টের অনেক মালামাল নষ্ট হয়েছে। আমার এই ক্ষতি কিভাবে পুরণ হবে।

জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, চা বাগানে নারী শ্রমিকরা তখন কাজ করছিলো। এসময় ঢাকা থেকে আসা ছাত্রলীগের কর্মীরা চা বাগানে ঢুকে নারী চা শ্রমিকদের ছবি তুলছিলো। চা বাগানের শ্রমিকরা ও আমাদের সহকারী ম্যানেজার মো. আলী তাদেরকে ছবি তুলতে নিষেধ করলে তারা সহকারী ম্যানেজারকে গাল মন্দ করে। ম্যানেজার বার বার তাদের নিষেধ করা সত্ত্বেও উত্তেজিতভাবে কথা বলতে থাকে ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা আমাদের সহকারী ম্যানেজার এর গায়ে হাত তুলে। তাকে টেনে রিসোর্টে নিয়ে যেতে চাইলে চা বাগানের শ্রমিকরা বাঁধা দেয়। মহানগর ছাত্রলীগের কর্মীরা নারী শ্রমিক ও সহকারী ম্যানেজার এর উপর হামলা করলে শ্রমিকরা চা বাগানের পাগলা ঘন্টা বাজালে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে রিসোর্টে যায়। পরে আমরা গিয়ে শ্রমিকদেরকে শান্ত করে বাগানে কাজে ফিরিয়ে এনেছি।
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চা বাগানে ছবি তুলা নিয়ে স্থানীয় চা শ্রমিকদের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয়রা এসে এর সমাধান করে দিয়েছেন। তবে তাদের (ছাত্রলীগ নেতাদের) উপর হামলার কথা অস্বীকার করেন তিনি৷
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ৷ তবে উক্ত ঘটনায় থানায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।

 

  •