মৌলভীবাজার হানাদার মুক্ত দিবস : ৮ ডিসেন্বর

শাহ‌নেওয়াজ চৌধুরী সুমন : আজ শনিবার ৮ডিসেন্বর, ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্বারা মরন পণ লড়াই করে পাক হানাদার বাহিনীকে মৌলভীবাজার থেকে বিতারিত করে শত্রুমুক্ত করেছিল। তবে এর আগে হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্বাসহ শতাধিক নারী পুরুষ শিশু। জানা যায় ৩০ এপ্রিলের পর থেকে পাকিস্থান হানাদার বাহিনী ৭ ডিসেন্বর পর্যন্ত মৌলভীবাজারে হত্যা করেছিল অর্ধশতাধিক মুক্তি যোদ্ধাসহ অগনিত নীরিহ মানুষকে। শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় হানাদার বাহিনী। মৌলভীবাজার মুক্ত করতে শাহবন্দর, বাউরভাগ, আজমেরু, খিদুর, বাসুদেবশ্রী, কামালপুর, পৈলভাগ, গয়ঘর, নড়িয়া এলাকায় ব্যাপক অগ্নি সংযোগ নির্যাতন ও এলাপাতারি গুলিতে বীর লড়াকু মুত্তিযোদ্ধা তারামিয়া, জমির মিয়া, নীরোধ চন্দ্র রায়, সিরাজুল ইসলাম ,আব্দুল মন্নান, উস্তার উল্লাহ,ও ইপিআরের সদস্যসহ কয়েক শত নারী পুরুষ আবাল বৃদ্ধবনিতা শহীদ হন। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বহুমূখী মরনপন লড়াই ও ভারতের সীমান্ত থেকে মুক্তি বাহিনী ক্রমশ ক্যাম্প অভিমুখে এগিয়ে আসার খবরে পাক বাহিনী ভীত হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ৬ ডিসেন্বর ভোরে মনুব্রীজ সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে তারা পালিয়ে যায় এবং অনেকটাই বিনা যুদ্ধেই মুক্ত হয় মৌলভীবাজার শহর। উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। ৮ ডিসেম্বর থেকে মুক্তি যোদ্ধারা দেশে আসতে শুরু করেন এবং তারা মৌলভীবাজার অভিমুখে এগিয়ে গেলে ৮ ডিসেম্বর পাক বাহিনী মৌলভীবাজার থেকে ও পালিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্বারা একটি শসস্ত্র সংগ্রাম ও অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময় মৌলভীবাজার মুক্ত করে ছিল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.