বন্যপ্রাণী বাঁচাতে বন অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে সবুজ আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশ ধ্বংস করে বিভিন্ন বনাঞ্চলে বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যার ফলে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য লোকালয়ে চলে আসছে। বিগত কয়েক মাসে সারাদেশে ৪০ টি বন্য হাতি, শত শত বানর, কুকুর, বিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী হত্যা করা হয়েছে। আজ ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের উদ্যোগে আগারগাঁও বন অধিদপ্তরের সামনে ৩৩ টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বয়ে বন্যপ্রাণী হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের অন্যতম পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলন এই কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদারকে এই জোটের আহ্বায়ক করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। সবুজ আন্দোলনের অর্থ পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন রুপা সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন।

নিলুফার ইয়াসমিন রুপা বলেন, নির্বিচারে বন্য প্রাণী হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বন অধিদপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের স্বার্থে এই হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। সাধারন জনগন যদি সচেতন না হয় তাহলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হতে বাধ্য। আমি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাবো অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করে নিরাপদ বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সৃষ্টিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সবুজ আন্দোলনের পরিচালক অভিনেতা উদয় খান বলেন, আমি একজন শিল্পী হিসেবে পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করছি। বন্যপ্রাণী হত্যার নামে এই অমানবিক কাজ কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। দ্রুত নির্বিচারে বন্য প্রাণী হত্যা বন্ধ না হলে আগামীতে আরো বড় পরিসরে কর্মসূচি দেওয়ার জন্য আমরা চিন্তা করবো।

উক্ত কর্মসূচিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর কবিরুল বাশার, বিশিষ্ট নদী গবেষক এজাজ আহমেদ, সবুজ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক এম এ মামুন, নারী উদ্যোক্তা বাংলাদেশের সভাপতি রুপা আহমেদসহ ৩৩ টি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ যোগদান করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে গান, চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি সহ বিভিন্ন কর্মসূচি সহ প্রতিবাদ জানানো হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.