রাজনগরে গণধর্ষিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংখ্যালঘু স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

রাজনগর প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় গণধর্ষণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংখ্যালঘু স্কুলছাত্রী মৃত্যুবরণ করেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহতের ভাই নাম উল্লেখে ৩ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদেরকে গ্রেফতারে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়- রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ছাত্রী ও ভূমিউড়া গ্রামের সংখ্যালঘু মানিক দেবের কন্যা ললিতা রানী দেব (১৬)-কে স্কুলে যাতায়াতের পথে একই গ্রামের মোঃ রহিম মিয়ার পুত্র মোঃ শাহান মিয়া প্রেমের প্রস্তাব, শারিরিক সম্পর্ক স্থাপনের কুপ্রস্তাবসহ নানা ধরণের কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত ও উত্যক্ত করতো। এ কারণে ললিতা সবসময় ভয়ভীত অবস্থায় থাকতো। একপর্যায়ে মোঃ শাহান মিয়াকে বিয়ে করার জন্য ললিতার কাছে প্রস্তাব দিলে, ললিতা বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। তারা বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং ললিতার ভাই নয়ন দেব রাজনগর থানায় মোঃ শাহান মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে আক্রোশান্বিত হয়ে মোঃ শাহান মিয়া, তার ভাই মোঃ কয়েস মিয়া, তাদের সহযোগী আব্দুল মন্নান ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন ললিতা ও নয়নকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি দিতে থাকে। তাদের ভয়ে নয়ন তার বোন ললিতার স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলে ১০ ডিসেম্বর ২০২২ সালে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বাংলা ১মপত্র বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ললিতা দুপুর ১টায় বাড়ী থেকে স্কুলের উদ্ধেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বাড়ীতে না ফেরায় তার খোঁজে নয়ন স্কুলে গিয়ে গেইট তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে প্রধান শিক্ষককে ফোন করে জানতে পারেন, ললিতা যথাসময়ে পরীক্ষা শেষে স্কুল ত্যাগ করেছে। এরপর নয়ন সম্ভাব্য সকল স্থানে ও আত্নীয় স্বজনের সাথে যোগযোগ করে ললিতার সন্ধান না পেয়ে রাজনগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় রাজনগর থানার এসআই কলিম উল্যাহ ফোন করে নয়নকে জানান- টেংরা চা বাগানের উদিত রাজভর তাকে জানিয়েছেন, টেংরা চা বাগানে একটি মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ খবর পেয়ে পিতা মানিক দেব ও মাতা কমলা রানী দেবকে নিয়ে নয়ন এসআই কলিম উল্যাহর সাথে ঘটনাস্থলে পৌছে দেখতে পান ললিতা রক্তাক্ত আহত ও অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। সাথে সাথে নয়ন এসআই কলিম উল্যাহর সহায়তায় হাবিব উল্যা ড্রাইভারের গাড়িযোগে ললিতাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্ত্তি করেন। পরদিন ১২ ডিসেম্বর জ্ঞান ফিরলে ললিতা জানায়- আসামীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এরপর সে আবারও অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার শারিরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়ে পরদিন ১৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় সে মৃত্যুবরণ করে। ওইদিনই ময়নাতদন্তের পর লাশ গ্রহণ ও সৎকার শেষে পরদিন ১৪ ডিসেম্বর নয়ন বাদী হয়ে ভূমিউড়া গ্রামের মোঃ রহিম মিয়ার পুত্র মোঃ শাহান মিয়া, মোঃ কয়েস মিয়া ও মোঃ সুলতান মিয়ার পুত্র আব্দুল মন্নানের নাম উল্লেখে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে রাজনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। তবে, আসামীদেরকে ধরতে পুলিশের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.