অবৈধভাবে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গৃহপালিত ছয় হাতির স্থায়ী বসবাস

পিন্টু দেবনাথ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে প্রায় এক মাস ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে গৃহপালিত ছয়টি হাতি। গৃহপালিত এসব হাতিগুলোকে রাতের বেলা বনে ছেড়ে দেয়া হয়। দিনের বেলা এদের কোনো কোনোটা অন্যত্র কাজে নিয়ে যাওয়া হয়, আবার কোনো কোনোটাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশবাদী ও সমাজসেবামূলক সংগঠন পাহাড় রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমদ ও লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির সাজু মারচিং জানান, প্রায় মাসখানেক ধরে ৫/৬টি হাতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কালাছড়া বিটে অবস্থান করছে। রাতে এসব হাতি ছেড়ে দেওয়া হয়। সারা বিট ঘুরে বেড়ায় তারা। হাতির দৈনিক খাবার খরচ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মাহুতরা এ কাজটি করছেন। একটি হাতি দৈনিক দু’ থেকে আড়াই হাজার টাকার খাবার খায়। বনে ছাড়া থাকলে অনেক টাকা সাশ্রয় হয় মাহুতদের। দিনে তাদের বেঁধে রাখে এবং রাত হলে ছেড়ে দেয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম, মৌলভীবাজার এর সভাপতি সৈয়দ মহসীন পারভেজ বলেন, লাউয়াছড়ার এই বনে গৃহপালিত হাতির প্রবেশ সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। অবৈধ হাতির অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের ফলে প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য হুমকির শামিল। তিনি এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে বনবিভাগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বন্যপ্রাণী গবেষক জানান, এগুলো যদি বুনো হাতি হতো তাহলে ততটা ক্ষতি হতো না। গৃহপালিত বলেই উদ্বেগের কারণ রয়েছে। আর জাতীয় উদ্যানের নীতিমালা অনুযায়ী এটা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি কাজ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তবে বর্তমানে আমার জানামতে তিনটি হাতি রয়েছে। বাকিগুলো মাহুতরা নিয়ে গেছে। তিনি আরো বলে, হাতিগুলো বাঘমারা সংলগ্ন এলাকায় মহলে কাজ করছে। স’মিলে মাল পরিবহন করে। খোঁজ নিয়ে দেখব।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এর সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এমএ শামসুল মহিত চৌধুরী বলেন, ব্যাপারটি আমার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.