প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর প‌রি‌বে‌শে লন্ডনে অনু‌ষ্ঠিত হ‌য়ে গেল ৮ম বই মেলা

ওপেন আই ডেস্ক : পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৮’ শীর্ষক বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য। এটি লন্ডনে বাংলাদেশ বই মেলার অষ্টম আয়োজন। সাহিত্যপ্রেমীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবারের মেলায় অংশ নেন।

বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবারে লন্ড‌নের বই মেলায় অংশ নেয়। দুই দি‌নের এই বই মেলায় সাহিত্যপ্রেমীদের ভিড়ও ছিল চো‌খে পড়ার মত । বই বি‌ক্রির পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেখানে চলে বিশিষ্টজনদের বক্তৃতা, গান পরিবেশনা ও কবিতা পাঠের আসর ।

২৩ সে‌প্টেম্বর রোববার বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরীসহ অতিথিরা। মঞ্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি গবেষক ফারুক আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন লেখক ও সাংবাদিক ইসহাক কাজল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি আসাদ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মাহমুদ শাহ কোরেশি, কানাডাপ্রবাসী কবি সাইফুল্লা মাহমুদ দুলাল, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আগামীর কর্ণধার ওসমান গনি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা প্রমুখ।

এবারের বইমেলায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রয়াত সাংবাদিক আবদুল মতিন ও তাসাদ্দুক আহমেদের নামে নতুন দুটো পদক ঘোষণা দেয়। এবার আবদুল মতিন
সাহিত্য পদক পেয়েছেন কবি রব্বানী চৌধুরী। তাসাদ্দুক আহমদ শিল্প ও সংস্কৃতি পদক পেয়েছেন নিউইয়র্ক মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানের ফাঁকে রব্বানী চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ সাহার প্রতিনিধির হাতে পদক তুলে দেন অতিথিরা । এ ছাড়া উক্ত অনুষ্টা‌নে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের উৎস প্রকাশনীর কর্ণধার মোস্তফা সেলিম, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, কানাডা থেকে আগত কবি আঞ্জুমান রোজী, ঢাকা থেকে আগত নাজমা মান্নান ও লন্ডন বারা অব রেডব্রিজের ডেপুটি হুইপ কাউন্সিলর সৈয়দা সায়েমা আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান যৌথ পরিচালনা করেন সংস্কৃতিকর্মী স্মৃতি আজাদ ও রেজওয়ান মারুফ।

আসাদ মান্নান মেলার চমৎকার আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, বই আমাদের মনের খোরাক জোগায়। বইমেলার আয়োজন মনের সেই খোরাকেরই জোগান দিচ্ছে। তিনি বলেন, বই না থাকলে আমি হয়তো আজকের আসাদ মান্নান হয়ে উঠতাম না।

তিনি আরও বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় চাই সৃজনশীল মানুষ, যাদের নিজের ভেতরে জ্ঞান চর্চার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি আছে। বই পড়ার মাধ্যমে সেই ইচ্ছাশক্তি শাণিত হয়। শিকড় সংস্কৃতির সঙ্গে প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে সম্পৃক্ত রাখতে এমন আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়ার উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, লন্ডনে বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আট বছর ধরে। টানা সাত বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত বছর এটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বছর আবার বইমেলা আয়োজন করায় উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

মাহমুদ শাহ কোরেশি বলেন, প্রবাসে বইমেলার আয়োজন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্যের সভাপতি ফারুক আহমদ বলেন, ভিন দেশে বসবাস করলেও মাতৃভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে আমাদের গভীর আবেগের টান। সেই টান থেকেই প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখছে আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা। ভবিষ্যতে এ মেলার পরিসর আরও বড় ও আরও
উৎসবমুখর হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.