মৌলভীবাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স ম্যানেজার মোকাররম মজুমদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

admin
প্রকাশিত July 10, 2018

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোং লিঃ এর সাবেক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানা মামলা গ্রহণ না করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা (পিটিশন নং- ১৫৭/২০১৮) দায়ের করেছেন ওই ধর্ষিতা। ঘটনাটি জানাজানি হবার পর স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি আপোষরফার চেষ্টা করলেও, শেষপর্যন্ত তা কালক্ষেপনের কৌশল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- মৌলভীবাজার শহরের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক স্বামীকে তালাক দিয়ে পুষ্প (ছদ্ধনাম) (২৩) নামের ওই নারী গীর্জাপাড়াস্থিত একটি ভাড়াবাসায় ৪ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে বসবাস ও প্রাইভেট টিউশনির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বীমা পলিসি খোলার ব্যাপারে আলাপচারিতার সুবাদে কুসুমবাগ শপিং সিটিস্থিত ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোং লিঃ এর ম্যানেজার কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলাধীন ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মজুমদারের পুত্র মোকাররম মজুমদার (৪০) এর সাথে পুষ্পর পরিচয় হয়। এরপর থেকে বীমা পলিসি খোলার জন্য তদবিরের অজুহাতে প্রায়শঃই তার সাথে মোবাইল ফোনালাপ করতেন।
একপর্যায়ে, মোকাররম মজুমদার বীমা পলিসি খোলার জন্য গত ০৩/০৪/২০১৮ইং মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পুষ্পর বাসায় হাজির হন। এসময় তাকে ড্রইংরুমে বসতে দিয়ে পুষ্প প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে বেডরুমে গেলে, মোকাররম পিছু পিছু গিয়ে পিছন থেকে তার মুখ চেপে তাকে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক বিছানায় ফেলে দেন এবং ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে তারই পড়নের ওড়না দিয়ে তার হাত ও মুখ বেধে তাকে ধর্ষণ শেষে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে, পুত্রের সহায়তায় অনেক কষ্টে বাধনমুক্ত হয়ে পুষ্প লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু না বলে সরাসরি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে ভর্ত্তি হন (রেজিষ্ট্রেশন ১৯০৭০, তাং ০৩/০৪/২০১৮ইং)। সেখানে চিকিৎসা ও ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে ০৭/০৪/২০১৮ইং পুষ্প বাসায় ফিরেন। এসময় তিনি মৌলভীবাজার মডেল থানায় গেলে থানা মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। পরে গত ০৯/০৪/২০১৮ইং তিনি মৌলভীবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা (পিটিশন নং- ১৫৭/২০১৮) দায়ের করেন। পরে, ধর্ষণের ঘটনা ও মামলা দায়েরের বিষয় জানাজানি হবারপর মোকাররম মজুমদারের অনুরোধে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি আপোষরফার চেষ্টা শুরু করেন। এ সুযোগে কোম্পানীর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মোকাররম মজুমদার ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ এর গোবিন্দগঞ্জ থানার মোড়, গাইবান্ধা শাখায় বদলী হয়ে যান।
মোকাররম মজুমদার গাইবান্ধা শাখায় বদলী হয়ে যাবার পর পুষ্প সেখানে যেয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই নুরুন্নবীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- ঘটনাস্থও যেহেতু তাদের থানার বাইওে সেকারণে কিছু করার নেই। তবুও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বা আদালতের নির্দেশনা থাকলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ায় নানাজনের নানা আলোচনা-সমালোচনা ও লোকলজ্জার পাশাপাশি মামলা তুলে নেয়ার জন্য মোর্কারম মজুমদার তার ঘনিষ্ট লোকজনের মাধ্যমে হুমকী দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ধর্ষিতা পুষ্প। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ এর গোবিন্দগঞ্জ থানার মোড়, গাইবান্ধা শাখায় ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত মোর্কারম মজুমদার বলেন- আমার ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, তার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে আমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নিয়েছে। সেই টাকা আত্বসাৎ ও আরও ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেই সে এ অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মোকাররম মজুমদার বলেন- আপোষ-মিমাংসার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু ২০ লক্ষ টাকার কাবিন, নগদ টাকা ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন মঞ্জুকে তালাকের কথা বলায় প্রস্তাবটি আর বেশি দূর এগুয়নি। এ ব্যাপারে মোকাররম মজুমদারের প্রথম স্ত্রী আয়েশা বেগমের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন- পুষ্প আমাদের বাসায় অনেকবার এসেছে। তার সাথে মোর্কারম মজুমদারের ঘনিষ্ঠতা ছিলো তবে ধর্ষণের বিষয়টা আমার জানা নেই। মোকাররম মজুমদারের দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন মঞ্জুকে ফোন দিলে তিনি নিজেকে মোকাররম মজুমদারের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন,কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পাবার পর তিনি ফোন রেখে দেন।
মোকাররম মজুমদারের অভিযোগ সম্পর্কে পুষ্প বলেন- অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট,বরং আমি তাকে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করেছি। যার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x