মৌলভীবাজারে লম্পট শিক্ষকের লালসার শিকার এক মাদ্রাসা ছাত্রী; থানায় অভিযোগ দায়ের

admin
প্রকাশিত April 12, 2020
মৌলভীবাজারে লম্পট শিক্ষকের লালসার শিকার এক মাদ্রাসা ছাত্রী; থানায় অভিযোগ দায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিয়ের প্রলোভনে লম্পট শিক্ষকের লালসার শিকার হয়েছে এক মাদ্রাসা ছাত্রী। এ নিয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নস্থিত কাকৈরকোনা গ্রামে। মাদ্রাসাছাত্রীটি বিয়ের প্রলোভনে একই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা যায় । অভিযোগে প্রকাশ- একই ইউনিয়নস্থিত আড়াইহাল গ্রামের মঈনপুর জালালীয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক লুৎফুর রহমান লিটন ভূঁইয়া প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে তার প্রতিবেশীর কিশোরী কন্যা ও একই মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন। এমতাবস্থায় গত ২৮ মার্চ শনিবার রাত ৯টার দিকে শিক্ষক লিটন ভূঁইয়া ওই ছাত্রীকে ডেকে বসতঘরের পিছনে নিয়ে যায় এবং বিবাহের নিশ্চিত আশ্বাস দিয়ে জোরপূর্বক দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একই মাদ্রাসার ছাত্রী হবার কারণে সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ছাত্রীটি এ ঘটনা গোপন রেখে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে শিক্ষক লিটন ভূঁইয়া নানা টালবাহানা করতে থাকেন। গত ৩০ মার্চ সোমবার রাতে শিক্ষক লিটন ভূঁইয়া ওই ছাত্রীর বসতঘরে আসে এবং তাকে একা পেয়ে পুনরায় দৈহিক মেলামেশার প্রস্তাব দিলে ছাত্রীটি অপারগতা প্রকাশ করে। এতে উত্তেজিত হয়ে শিক্ষক লিটন ভূঁইয়া ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ছাত্রীকে জোর করে বাহিরে নেওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রীটি শোর-চিৎকার-চেচামেচি শুরু করে। ছাত্রীর চিৎকার-চেচামেচি শুনে তার  মা-বাবা ও আশপাশ ঘরের লোকজন ছুটে আসলে শিক্ষক লিটন ভূঁইয়া দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে তার বাড়ীতে চলে যান। পরে ছাত্রীর পিতা ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনসহ ইউপি সদস্য কে জানালে ইউপি সদস্য আদর মিয়া ৩ এপ্রিল শুক্রবার সালিশ ডেকে বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে তিনি তারিখ পরিবর্তন করে ৪ এপ্রিল শনিবার সালিশের তারিখ দেন।

এদিকে, ঘটনার পর ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং একপর্যায়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত ০৩ এপ্রিল তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়। অপরদিকে, সালিশের জন্য নির্ধারিত শনিবার ইউপি সদস্য আদর মিয়া জানান, শিক্ষক লিটন ভূঁইয়া ঘটনাটি মিথ্যা দাবী করে সালিশে বসতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তাই তার কিছুই করার নেই। এমতাবস্থায়, নিরুপায় ছাত্রীটি গত ৬ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ’এটা ভূয়া অভিযোগ’ বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মোবাইল বন্ধ করে দেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রহিমা বেগম ছাড়াও স্থানীয় ও আশপাশের ডজনখানেক পরিবারের নারী-পুরুষ সরেজমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইউপি সদস্য আদর মিয়া জানান, একই মাদ্রাসার ছাত্রী ও শিক্ষক থাকায় ইতিপূর্বের ঘটনাবলী ঘটতেও পারে, এসব আমার জানা নেই। তবে সর্বশেষ ঘটনাটি মিথ্যা এবং সাজানো বলে লিটনের পরিবার জানিয়েছে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান অভিযোগ তদন্ত চলছে সেই সাথে অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সর্বশেষ- এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত ঘটনাটির পুলিশী তদন্ত চলছে। অপরদিকে লিটন ভূইয়া প্রভাবশালী থাকায় ইউপি সদস্য আদর মিয়ার ঘনিষ্ট ও বিশ্বস্ত সাজন মিয়া নামীয় একব্যক্তি ভূক্তভোগী পরিবারকে অর্থের লোভ দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x