রাজনগর প্রতিনিধি : গণধর্ষণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় বরণকারী সংখ্যালঘু স্কুলছাত্রীর ভাই এবং এ ঘটনায় দায়েরী নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বাদীর বিরুদ্ধে সাজানো ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের করেছে এক ধর্ষক। আর, ওই সাজানো ধর্ম অবমাননা মামলার আসামী হয়ে উক্ত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বাদী ওই মৃতঃ স্কুলছাত্রীর ভাই, সংখ্যাগরিষ্ট মুসলীম আসামীদের, তাদের স্বজনদের ও সহযোগীদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে আত্নগোপন করতে বাধ্য হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার রাজখলা গ্রামের শাহাবপুর জামে মসজিদে।
সাজানো ধর্ম অবমাননা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়- মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ভূমিউড়া গ্রামের সংখ্যালঘু মানিক দেবের পুত্র ও গণধর্ষণে আহত হয়ে সংখ্যালঘু স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরী মামলার বাদী ওই স্কুলছাত্রীর ভাই নয়ন দেব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ধর্মের বৈরিতা করে থাকে। সেকারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ তাকে এড়িয়ে চলেন। ইসলাম ধর্ম নিয়ে বৈরিতা প্রকাশ না করার জন্য তার পরিবারকে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে অবগত করা হয়। গত ১৫ আগষ্ট ২০২৪ সাল বৃহষ্পতিবার সন্ধায় মাগরিবের নামাজ চলাকালীন সময়ে আসামী নয়ন ঘটনাস্থল শাহাবপুর জামে মসজিদের পাশে উপস্থিত হয়ে রাস্তার উপর দাড়িয়ে মসজিদ লক্ষ্য করে একের পর এক ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে মসজিদের জানালা ভাংচুর করে এবং ইসলাম ধর্মের আদর্শ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে উচ্চস্বরে অশালীন গালিগালাজ করতে থাকে। নামাজ শেষ হলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মসজিদ থেকে বের হবার সময় সে আরও উত্তেজিত হয়ে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে নিয়ে নানারুপ অশালীন মন্তব্য করতে থাকে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ তাকে প্রতিহত করতে চাইলে সে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আসামী নয়নের উক্তরুপ ধর্ম অবমাননাকর কর্মকান্ডে ধর্মপ্রাণ মুসমানদের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। মসজিদের জানালা ভাংচুর করায় প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়। নয়নকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় পরদিন ১৬ আগস্ট শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আলাপ আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
ধর্ম অবমাননা অভিযোগে দায়েরী মামলার বিষয়ে নয়নের পিতা মানিক দেব বলেন- আমার পুত্র নয়ন দেব কখনও ধর্ম অবমাননা করেনি। এটি একটি পরিকল্পিত সাজানো মামলা। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে- এ মামলার বাদী মোঃ কয়েস মিয়া, তার ভাই মোঃ শাহান মিয়া, তাদের সহযোগী আব্দুল মন্নান এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন আমার স্কুল পড়ুয়া কন্যা ললিতা রানী দেবের ধর্ষক ও সহযোগী। গণধর্ষণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার কন্যা ললিতার মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরী নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বাদী হচ্ছে আমার পুত্র নয়ন। ওই মামলা থেকে বাঁচতে নয়নকে এলাকাছাড়া করার জন্য পরিকল্পিতভাবে মোঃ কয়েস মিয়া বাদী হয়ে সাজানো ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের করেছে। ধর্ম অবমাননা মামলা দায়েরের পর নয়নের দায়েরী নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামীরা, তাদের স্বজনরা ও সহযোগীরা নয়নকে হত্যা অথবা গুম করে ফেলার জন্য একের পর এক তৎপড়তা চালাতে থাকে। প্রাণভয়ে তাদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে নয়ন আত্নগোপন করতে বাধ্য হয়েছে। একদিকে, আমরা জানিনা সে কোথায় আছে, কিভাবে আছে, কেমন আছে। অপরদিকে, নয়নের দায়েরী উক্ত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার সংখ্যাগরিষ্ট মুসলীম আসামীদের, তাদের স্বজনদের ও সহযোগীদের ভয়ে আমরা পুরো পরিবার সর্বক্ষণ চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। তারা কখন কি করে বসে তা ভবিতব্যই জানে। আইন-আদালতের কাছে আমার কন্যা ললিতা গণধর্ষণ ও মৃত্যুর বিচার চেয়ে আমরা পরিবারের সবার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।