নিজস্ব সংবাদ ::দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসানের পর দেশে একটি প্রকৃত, সুষ্ঠু ও কারচুপিমুক্ত নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার–রাজনগর আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমান।
তিনি বলেন, যেভাবে সারাদেশ নির্বাচনী ট্রেনে উঠে পড়েছে, সেই ট্রেন যেন কোনো ষড়যন্ত্র বা সহিংসতায় দুর্ঘটনার শিকার না হয়—এ দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।
২৯ ডিসেম্বর (সোমবার ) দুপুর দেড়টার দিকে এম নাসের রহমান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের হাতে জমা দেন।
মৌলভীবাজার–রাজনগর আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমান বলেন, সাড়ে ১৫ বছর একটি স্বৈরাচার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল এবং ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইচ্ছা তাদের ছিল না। ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাদের বিদায় হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে বেশি কারচুপির নির্বাচন। ২০০১ সালের পর আজ ২৪ বছর পরে একটি প্রপার নির্বাচনের বাস্তব প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণ কারচুপিমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচন স্মরণ করে বলেন, তখন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল এবং ঠিক তেমন একটি নির্বাচনই তারা প্রত্যাশা করছেন।
নাসের রহমান বলেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে দুই ধরনের শক্তি সক্রিয় রয়েছে। দেশের ভেতরের কিছু লোককে বাইরের শক্তি নির্বাচন বানচাল করার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, “যেভাবে সারাদেশ নির্বাচনী ট্রেনে উঠেছে, সেই নির্বাচনী ট্রেন যেন কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন না হয়। আমরা দেশবাসী সবাই প্রত্যাশা করি, এই নির্বাচনী ট্রেন তার নির্ধারিত স্টেশন ১২ ফেব্রুয়ারিতে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে ইনশাআল্লাহ
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, আব্দুল মুকিত, ফয়সল আহমদ, মো. বদরুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, মোম ফকরুল ইসলাম,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমেদ, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্বাস আলী মাস্টার, পিপি এডভোকেট আব্দুল মতিন, পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমদ রহমান।
এর আগে এম নাসের রহমান বাহারমর্দানে তাঁর পিতা সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং মাতা দুররে সামাদ রহমানের কবর জিয়ারত করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করেন। পরে দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হযরত শাহ মোস্তফার (রহ.) মাজার শরিফ জিয়ারত শেষে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
মনোনয়ন দাখিল শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে এম নাসের রহমান বলেন, “আপনাদের সবার দোয়ায় মনোনয়ন দিয়ে এসেছি।
তবে আমরা নির্বাচনী কার্যক্রম মিছিল দিয়ে শুরু করবো না। মাইকিংসহ আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২১ জানুয়ারির আগে শুরু করা যাবে না, ঘরোয়া বৈঠক করা যাবে।