আব্দুল কাইয়ুম কামরুল কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন গ্রামাঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন, তখন প্রেসক্লাবের এই উদ্যোগ তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নন, সমাজের প্রতি তাদের একটি বড় মানবিক দায়িত্বও রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব যেভাবে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন এভাবে এগিয়ে এলে শীত মৌসুমে কেউ কষ্টে থাকবে না।
কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন-এর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক নির্মল এস পলাশ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে গ্রামের অসহায় মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকেন। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারাই প্রেসক্লাবের জন্য সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা। এছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক বিশ্বজিৎ রায়, প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, শাব্বীর এলাহী ও পিন্টু দেবনাথ। বক্তারা বলেন, প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সমাজের সব সচেতন মানুষেরই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা উচিত।
এ সময় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শীতবস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই মানবিক উদ্যোগের জন্য প্রেসক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, এটি তাদের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। আগামীতেও কমলগঞ্জের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দুই শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়।