• ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সড়ক উন্নয়নকাজে ব্যাহত পাঠদান, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৯, ২০২৬
সড়ক উন্নয়নকাজে ব্যাহত পাঠদান, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের গোবরর্ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের একেবারে সামনে পিচ গলানোর কাজ চলায় ধোঁয়া, ধুলাবালি ও ছাইয়ে দূষিত হয়ে পড়ছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে আদুমপুর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেই পিচ গলানোর জন্য আগুন জ্বালিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সেখান থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া সরাসরি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা ও শিক্ষক কক্ষে ঢুকে পড়ছে। ধোঁয়ার সঙ্গে পোড়া ছাই ও ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিদ্যালয় এলাকায়। এতে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পাঠগ্রহণ করতে পারছে না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রতিদিন ক্লাস চলাকালীন অনেক শিক্ষার্থী কাশি, চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার সমস্যায় ভুগছে। ছোট শিশুদের জন্য এ ধরনের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও ধোঁয়া ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। নির্মাণকাজের উচ্চ শব্দে শিক্ষার্থীদের মনোযোগেও বিঘ্ন ঘটছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মনজুর মৌলা চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক নির্মাণের সব সরঞ্জাম রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত সেখানে আগুন জ্বালিয়ে পিচ গলানো হচ্ছে। এতে প্রচুর ধোঁয়া বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকছে। ছোট শিক্ষার্থীরা শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ধোঁয়ার কারণে চোখ জ্বালা করে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অনেক সময় মাথা ঘোরে, ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না।
স্থানীয় অভিভাবকেরা বলছেন, বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় সামনে এভাবে সড়ক উন্নয়নকাজ চালানো অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাঁরা দ্রুত বিদ্যালয়ের সামনে থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোমা ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সাঈফুল আজম বলেন, রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকায় সাময়িকভাবে ওই স্থান ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই সময় বিদ্যালয় বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।