কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: গভীর উৎসাহ, উদ্দীপনা নিয়ে ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য সাথে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাধীন কামুদপুরে মহাদূত সাধু মিখায়েল গীর্জার দ্বিতীয় পর্ব পালন করা হয়েছে।
২৭সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ (রবিবার ) সকাল ১১টায় পবিত্র খ্রীষ্টযাগ অর্পণ মধ্যদিয়ে এ পর্ব’টি পালন করা হয়। এই পর্বের পবিত্র খ্রীষ্টযাগ অর্পণ করেন সিলেট ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ ডিডি,এ সময় খ্রিষ্টযাগে সহযোগীতা করেন কামুদপুর মহাদূত সাধু মিখায়েল গীর্জার দ্বায়িত্বরত পালক পুরোহিত ফাদার ফ্রান্সিসকো রিজ্জু, গিয়াসনগর মাইনর সেমিনারী রেক্টর ফাদার টুইস বার্নাথ নকরেক,সিলেট থেকে আগত সিস্টার ও সেমিনারীয়ানবৃন্দ ।
এসময় কামুদপুর মহাদূত সাধু মিখায়েল মিশনের অধীনে দশটি গ্রাম-পুঞ্জির সমাজের রাংবাবালাং – মাতবর, ক্যাটিখ্রীষ্ট শিক্ষক ও নয়’শত অধিক খ্রীষ্টভক্ত এই মহাদূত সাধু মিখায়েল পর্বে অংশগ্রহণ করেন।
এই কামুদপুর মহাদূত সাধু মিখায়েল গীর্জা পূর্বদিনে আটজনকে বাপ্তিস্মা দেওয়া হয় এবং ২১জন ছেলেমেয়ে প্রথম খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণ করেন।
এই পর্বদিন উপলক্ষে বিশপ বলেন,আজ সকলের সুবিধার্থে এ গীর্জার প্রতিপালক মহাদূত সাধু মিখায়েল পর্ব পালন করা হচ্ছে। মহাদূত সাধু মিখায়েল যিনি স্বর্গদূত বাহিনীদের প্রধান, যিনি শয়তান ও যত মন্দতা থেকে খ্রীষ্টভক্তদের সুরক্ষা করেন, তিনি আমাদেরকে বিশ্বাসে সাহসী হতে শিখিয়ে দিচ্ছেন। যীশুর পুনরুত্থানের সেই দিনের মতো, যখন সমাধিগুহার পাথরের উপরে বসে থেকে তিনি নারীদের বললেন “ভয় পেয়োনা প্রভু পুনরুত্থিত!”, সে ভাবে আমাদেরকেও তিনি সাহস দিয়ে আমাদের আহ্বান করেন যীশু খ্রীষ্টের জীবন্ত উপস্থিতির দূত হতে।আমরা যীশুর উপস্থিতি উপলব্ধি করেতে পেরেছি এই আমাদের পর্বের দিনে। খ্রীষ্টযাগ আমাদেরকে এক করে তুলেন ও আমরা তাঁর মণ্ডলী।
মিশা পরে ভিক্টোরিয়া হাউজ নামে প্রান্তিক সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের ছাত্রীনিবাস বিশপ প্রার্থনা ও আর্শীবাদ মধ্যদিয়ে শুভ উদ্বোধন করেন।এই বিশেষ আনন্দ দিনে মহাদূত সাধু মিখায়েল গীর্জার পালক পুরোহিত ফাদার ফ্রান্সিসকো রিজ্জু’র জন্মদিন পালন করা হয়।এ জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও সকলের পক্ষে বিশপ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে উপস্থিত সকলকে জন্মদিনের মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
শেষাংশে ঐতিহ্যগত নাচগানে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফাদার ফ্রান্সিসকো রিজ্জু তিনি বিশপ, ফাদার, সিস্টার,রাংবাবালাং মাতবর, ক্যাটেখিশ টিচারসহ সকল খ্রিষ্টভক্তকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, এবং মধ্যাহ্ন ভোজন শেষে এ পর্ব কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।