• ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

বেসামরিক শহীদ মুক্তিযুদ্ধাদের বীরশ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি না দিয়ে রাষ্ট্র জনযুদ্ধকে সামরিক যুদ্ধ বানিয়ে ফেলেছে – মৌলভীবাজারে কমরেড খালেকুজ্জামান

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯
বেসামরিক শহীদ মুক্তিযুদ্ধাদের বীরশ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি না দিয়ে রাষ্ট্র জনযুদ্ধকে সামরিক যুদ্ধ বানিয়ে ফেলেছে – মৌলভীবাজারে কমরেড খালেকুজ্জামান

হুমায়ূন রহমান বাপ্পী : সরকার ভিন্নমত দমণে দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর ব্যবহার করছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন কিংবা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের মদদে হেলমেটলীগ-শ্রমিকলীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় ছাত্র-জনতার উপর হামলা করেছিল,তা সবাই দেখেছেন। এছাড়াও সরকারের অনুগত আইন শৃংখলা বাহিনী যেভাবে প্রকাশ্যে গুমসহ প্রকাশ্যে বামদের এবং বিরোধী দলের উপর নির্দয় লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল এবং জলকামান ছোড়ে, এতে স্বৈরতন্ত্রের প্রকাশ পাচ্ছে। অপর দিকে আ’লীগের মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দ সকল বিষয়ে কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রীর আদেশের দোহাই দিয়ে সকল বৈধ এবং অবৈধ কাজের দায় কৌশলে শেখ হাসিনার কাধে চাপিয়ে যাচ্ছেন।
সামরিক বাহিনীর শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলছি, সামরিক বাহিনীর ৯জন শহীদকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয়া হয়েছিল, কিন্তু বেসামরিক দুঃসাহসী শহীদ মুক্তিযুদ্ধাদের কাউকে বীরশ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি দেয়া হলনা। উদাহরণ শহীদ রুমি। বেসামরিক শহীদদের কৌশলে অবমূল্যায়ন করে রাষ্ট্র জনযুদ্ধকে সামরিক যুদ্ধ বানিয়ে ফেলেছে। এত বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়নি। একটা দল হঠাৎ সংগঠিত মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিলেও জনগণ জনযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীন করেছিল। সরকারের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দিয়েও থামেনি। বরং নিয়মিত বাঙ্গালীদের গুলি করে মারছে এবং এদেশে মাদক পাচার করছে। যা বিশ্বে বিরল।
এ প্রতিবেদকের একাধিক প্রশ্নের জবাবে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, আপনাদের (অন্য বাম দলগুলির) দৃষ্টিতে আমাদের (বাসদ) ৯৮% ভূল থাকতে পারে কিন্তু আপনাদের (বাম দলগুলি) দৃষ্টিতে আমাদের ২%তো ভাল দিক আছে। এই ২% এর দিকে তাকিয়ে আমাদের (বাসদ) সঙ্গে যোগ দিলে বামজোট শক্তিশালী হবে।
মুক্তিযুদ্ধকালীণ গণচীন এবং মাও এর ভূমিকায় আমরা অসন্তুষ্ট। তবে বুর্জোয়া আ’লীগ নেতৃত্বের কারণে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মাও সে তুং ও চীন মৌখিকভাবে পাকিস্তান কে সমর্থন দিয়েছিল। ভারতীয় সংসদে ৭১এর মুক্তিযুদ্ধে গণচীন ও মাও’য়ের প্রতি নিন্দা প্রস্তাব জানাতে অস্বীকার করে ইন্দিরা গান্ধি বলেছিলেন, চীন কর্তৃক পাকিস্তানকে মৌখিক সমর্থন জানালেও কোন প্রকার সামরিক সাহায্য করেছিল সে প্রমাণ আমরা পাইনি। দেশের আন্দোলন-সংগ্রামে বামদলগুলি প্রথম সারিতে থাকে এবং ক্ষমতাসীনদের দলীয় পেটুয়া বাহিনী এবং অনুগত নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দয় লাঠিপেটার শিকার হচ্ছে। বামেরা টিয়ারশেল ও জলকামানের হামলার শিকার হয়েও তো সরকারগুলির অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখছে। কিন্তু আমরা তো আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের উপর পাল্টা হামলা চালাতে পারি না? পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েও লাভ নেই। কারণ রাষ্ট্র এদের ব্যবহার করছে। তাই আমাদের কে সংগঠিত হয়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ এবং জনমত সংগঠিত করতে হবে।
শুক্রবার ও শনিবার (২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারের পৌর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশ ও শিক্ষা শিবিরে মৌলভীবাজার জেলা বাসদের আহবায়ক এডভোকেট মইনুর রহমান মগনুর সভাপতিত্বে ও বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফরের পরিচালনায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক এডভোকেট জুনায়েদ আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শান্তিপদ ঘোষ, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিরাজ উদ্দিন বাদশা, জেএসডি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উদ্দিন চৌধুরী সুইট, জাকসুর সাবেক জিএস আজিজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদ মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি আসম ছালেহ সোহেল, প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, হবিগঞ্জ জেলা বাসদ নেতা মুজিবুর রহমান ফরিদ, সিলেট জেলার বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পাল, পাপ্পু চন্দ, মৌলভীবাজার জেলা বাসদ নেতা রায়হান আনছারী, ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি রেহনুমা রুবাইয়াৎ,সাংবাদিক হুমায়ূন রহমান বাপ্পী।