• ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১২ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

রাতের আধারে ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে সেইভ দি পিপুল এর ৩য় ধাপের উপহারের ব্যাগ

admin
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২০
রাতের আধারে  ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে সেইভ দি পিপুল এর ৩য় ধাপের উপহারের ব্যাগ

শহর প্রতিনিধিঃ করোনার এই কঠিন সময়ে মধ্যভিত্ত ও নিন্মভিত্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংঘঠন সেইভ দি পিপুল ও গ্রীন লীফ ক্লাব। লোক চক্ষুর আড়ালে রাতের আধারে তারা চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ পূর্ণ উপহারের ব্যাগ পৌঁছে দিচ্ছে মধ্যভিত্ত ও নিন্মভিত্তদের ঘরে। যারা হাত পাততে পারেন না লোকলজ্জার ভয়ে সরকারী ত্রাণ নিতে ও আসতে পারেন না তাদের তালিকা তৈরী করে রাতের আধারে তাদের ঘরে ঘরে উপহার এর ব্যাগ নিয়ে ছুটে চলেছেন কিছু সেচ্ছাসেবীরা। ১ম ধাপে ২০০ মধ্যভিত্তদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এই উপহারের ব্যাগ দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৫০ নিন্মভিত্তদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এই উপহারের ব্যাগ আর ৩য় ধাপে ঈদের সেমাই চিনি সহ আরও ১০০ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এসব উপহার এছাড়াও বেশ কিছু পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে।

মহতী এই উদ্দ্যোগের মূল উদ্দ্যোক্তা ক্রিকেট কোচ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্কোরার রেজওয়ান মজুমদার রুমান জানান আমরা দীর্ঘদিন থেকেই কিছু কিছু সামাজিক কাজ করে যাচ্ছি তবে অন্যদের থেকে আমাদের কাজের ধরন একটু ভিন্ন।

আমরা মূলত ঈদে গ্রামের মধ্যভিত্তদের তালিকা তৈরী করি যারা শহর থেকে অনেক দূরে সবার চাহিদা পূরণ করে নিজের জন্য নতুন পোষাক কিনতে পারেন না তাদের খোঁজে তাদের হাতে ঈদের উপহার তুলে দেই কিছু কিছু অসহায় পরিবারের জন্য ডেউটিন,কিছু দ্ররিদ্র ছাত্রদের বই কিনতে কারও চিকিৎসায় সহায়তা করার চেস্টা করি। গত বন্যায় আমরা সাধ্যমতো ত্রান সামগ্রী প্রদানের চেস্টা করি।

রাজনগরের ফতেপুর ইউনিয়নে আমরা ৫ কেজি করে প্রায় ৩০০ প্যাকেট চাল বিতরন করি।গত বন্যায় হাজীপুর ইউনিয়নের ভূইগাঁও গ্রামে আমরা চাল, ডাল,তেল, পেয়াজ,লবণ, আলু, হলুদ, মরিচ, সাবান প্রায় ৩৫০ প্যাকেট বিতরন করি। ২৫০ জনকে ঔষধ বিতরন করি।

এবারের এই উপহার দেওয়ার পূর্বে আমরা প্রত্যেক এলাকা হতে কিছু তালিকা তৈরী করি এই তালিকা আবার কয়েকজনকে দিয়ে তৈরী করাই যাতে প্রকৃত মধ্যভিত্ত/নিম্ম মধ্যভিত্ত যার একান্তই প্রয়োজন তার হাতে যেন আমাদের উপহার পৌছাতে পারি। শুরুতে ৫০ জন এর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বড় ভাই একাই আরও ৫০ জনের জন্য টাকা পাঠিয়ে দেন এর পর আরও অনেকেই সেচ্ছায় শরীক হন মহতী এই কাজে যার ফলশ্রুতিতে আমরা প্রায় ৫০০ জন মানুষের হাতে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিতে পেরেছি ১ম ও ২য় ধাপে প্রতি ব্যাগে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু ছিলো ঈদের আনন্দ বাড়াতে আমরা ৩য় ধাপে সেমাই ও চিনি যোগ করি।

গত ১২ বছর ধরে আমাদের কাজে সবসময় সাহায্য করে যাচ্ছেন আমার পরিবারের সদস্য ও প্রবাসী আত্নীয়রা।শুরু থেকেই সাথে আছেন সাংবাদিক হাসানাত কামাল,প্রবাসী ফয়সল রনি,এনামূল ইসলাম এনাম,জুয়েল মতিন,মূসলেহ উদ্দিন মান্না,ইমদাদুর রাসেল,মুহিত রনি,জাবেদ কোরেশী,কাইয়ূম জাবেদ,বকশী মামুন,ইউনুস সাহান, দেওয়ান শরীফ, আব্দুল মোক্তাদীর চৌধুরী, সৈয়দ পলি, আনুষা রুহী, আহাদ চৌধুরী, জামিল চৌধুরী, শাহরিয়ার বুলবুল, নাজমূল, সোহেল, সানী, রেজা,রাফী, সোহান, নাঈমসহ অনেকেই দেশে থেকে সবসময় পাশে থাকেন সেলীনা আলাউদ্দিন,সারওয়ার মজুমদার ইমন,খায়রুজ্জামান শ্যামল,সৈয়দ মেহবুব মোর্শেদ,আলী হোসেন,রাসেল আহমদ,কয়ছর আহমদ,শাহরিয়ার মোস্তফা তানিম,জাহেদ চৌধুরী,রেদোয়ান রাজু,ইঞ্জিনিয়ার রহমান রাহেদ,ইঞ্জিনিয়ার তাসনিম,ডা.আজিজুল,হাসান রাহাত,নিজাম সরকার,খোকন,নাঈম আরমান,সামির শিপু,সুয়েব আহমদ,ফকরুল ইসলাম রাজু,মোর্শেদ আহমদ,চমন মজুমদার,হীরা মজুমদার,আবু লেইছ সালেহ,রেজোয়ান,সালমান,আবীর সহ অনেকেই।

রুমান সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন ভাল কাজে আল্লাহ সব সময় সাহায্য করেন এবারে শুরু থেকেই প্যাকিংয়ে অনেক কস্ট করেছেন আমার মেজ ভাই চমন মজুমদার,সোহেল,নয়ন ও নাদিম।বিতরন ও তালিকা তৈরিতে সাহায্য করেছেন ইমন মজুমদার,কয়ছর আহমদ,আলী হোসেন,হাফেজ মোস্তাক,সেলিম রেজা,রাহুল,শেখ জাহিদ,রুমন,সুয়েব,শাওন,সোহেল।তারা রাতের আধারে ভ্যান,রিক্সায় ছোটে গেছেন মানুষের ঘরে ঘরে।আমাদের এই সহায়তায় নিজ থেকে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন আর কেউ কেউ শুরু থেকেই সাথে আছেন ভবিষ্যতে ও থাকবেন।

আল্লাহ যেন সবার দান কবুল করেন আর আমরা তা সঠিকভাবে মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে পারি।

সবাই সবার জায়গা থেকে যেন আমরা মানুষের পাশে থাকতে পারি সচেতন করতে পারি আর নিজেরা ও সচেতন থাকি সবার ঈদ হোক আনন্দের।