নিজস্ব প্রতিনিধি : স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ‘ফ্রুট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটি (এইচআরডিএস) মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এবং প্যারটস একাডেমির যৌথ আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ৩টায় শহরের প্যারটস একাডেমি মৌলভীবাজার ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফলের প্রদর্শনী, ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কিত আলোচনা এবং সচেতনতামূলক বার্তার মাধ্যমে উৎসবটি হয়ে ওঠে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি শিক্ষার এক অনন্য আয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এইচআরডিএস মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি জাবের আহমদ। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ মাহিন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শেফুল, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি হোসাইন আহমদ, এনটিভি ইউরোপ ও দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার মৌলভীবাজার প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ চৌধুরী সুমন, প্যারটস একাডেমির চিফ এক্সিকিউটিভ তাহরীম হোসেন তায়েফ, গাজী টিভির মৌলভীবাজার প্রতিনিধি আশরাফ আলী, প্যারটস একাডেমির আইইএলটিএস (IELTS) ইন্সট্রাক্টর নাইম জামান, বাংলাদেশ সমাচারের প্রতিনিধি রিপন আহমদ এবং প্রয়োজন অ্যাপের ফাউন্ডার সোহাদ আহমদ খান ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ, এইচআরডিএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরান আহমদ, প্রচার সম্পাদক কামরান আলম, ভুক্তভোগী সহায়তা বিষয়ক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা পিংকি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক শেখ আমিরুন্নেসা আলোসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ফল মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও পুষ্টি উপাদানের অন্যতম উৎস। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমানে ফাস্টফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ফলভিত্তিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সুস্থ ও সচেতন সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অতিথিরা আরও বলেন, ফল শুধু খাদ্য নয়, এটি সুস্থ জীবনধারার প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে পুষ্টিকর খাদ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
উৎসব শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ফল পরিবেশন করা হয় এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আয়োজকদের মতে, সমাজে পুষ্টি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
